বইয়ের নামঃ আবেগের রঙ্গে বুদ্ধিও থাক সঙ্গে
লেখকঃ কাজী হাসান রবিন।
বইটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক Kazi H. Robin স্যারের লেখা। এর আগে স্যারের লেখা “সম্ভাবনার স্বপ্নযাত্রা” বইটি পড়েছিলাম। যে বইটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য এত ভালো গাইড লাইন এর আগে অন্য কোন বইয়ে পাইনি।
এখন এই বইয়ের প্রসঙ্গে আসি, বইটি একটি শব্দকে কেন্দ্র বিন্দুতে রেখে লেখা হয়েছে। শব্দটি হল আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। এটি একটি ইতিবাচক শব্দ। আগে আমি এই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিলাম না। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা একজন মানুষের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়তা এবং কিভাবে একজন ব্যক্তিকে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হতে হয় তা খুব সুন্দরভাবে এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা মানে এই নয় যে একজন ব্যক্তি তার আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বরং একজন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষ সিদ্ধান্ত নিবে তথ্য প্রমান ও যুক্তি দিয়ে। অর্থাৎ যেখানে থাকবে আবেগের সাথে বিবেকের সংমিশ্রণ।
আবেগ-অনুভূতি আমাদের সবারই আছে কিন্তু সে আবেগের ভাষা কি হবে, কখন এবং কিভাবে ব্যক্ত করতে হবে তা সুন্দরভাবে এই বইয়ে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমস্যাকে কিভাবে প্রস্তুতি নিয়ে দূর করা যায় এবং ইতিমধ্যে তৈরি হওয়া সমস্যা কিভাবে বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করতে হয় তা চমৎকারভাবে বলা হয়েছে এই বইয়ে।
এই বইয়ের মূল শিক্ষাটুকু যদি সংক্ষেপে নিজের ভাষায় বলিঃ প্রত্যেক মানুষকে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হতে হবে। কারণ একজন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষ তার নেতৃত্বের গুণাবলী প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। যে নেতৃত্ব ভিন্নমত এবং ভিন্ন মতাদর্শকে শ্রদ্ধা জানায়। একজন আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষ নিজের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠতে পারেন নিজেই নিজের নেতা, নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা এবং নিজেই নিজের বিচারক।
আমরা সাধারণত আশেপাশের জগত থেকে প্রতিনিয়ত যা দেখি, শিখি এবং জানি সেই অনুসারে আমাদের ধারণা, বিশ্বাস বা মতবাদ গড়ে ওঠে। আমাদের অবচেতন মন এই চিন্তার বাইরে যেতে চায় না। যাকে বলে কনফার্মেশন বায়াস। আমাদের বের হয়ে আসতে হবে কনফার্মেশন বায়াস নামক এই রোগ থেকে, দূর করতে হবে চিন্তার জগতের শূন্যতা। যা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে সহায়ক হবে।
(ধন্যবাদ)
লেখাঃ ইকবাল হোসেন